Comic Story
Panel 1
অফিসের ঘড়িটা রাত দশটা ছুঁয়েছে। সবাই চলে গেলেও অনীক তার কম্পিউটারের স্ক্রিনে তাকিয়ে আছে। এই প্রজেক্টটা তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
Panel 2
মিঃ রহমান অনীকের কাঁধে হাত রাখলেন। “দারুণ কাজ করছো, অনীক, কোম্পানির ভবিষ্যৎ তোমার মতো কর্মীদের হাতেই। এই প্রজেক্টটা পাশ হলে তোমার বড় প্রমোশন নিশ্চিত।“
Panel 3
বাসায় ফিরে অনীক তার ক্যানভাসের দিকে তাকিয়ে থাকে। দিনের পর দিন এটা সাদাই পড়ে আছে। তার ভেতরে একটা চাপা কষ্ট তৈরি হয়।
Panel 4
পরদিন অফিসে মিঃ রহমান মিটিংয়ে নতুন সুযোগের কথা ঘোষণা করেন। “আমাদের নতুন প্রজেক্টের প্রধান পদের জন্য আমি অনীককে ভাবছি। তবে এর জন্য ওকে নিজের সবকিছু উজাড় করে দিতে হবে।“
Panel 5
সেই রাতে অনীক রঙ আর তুলি হাতে তুলে নেয়। অনেকদিন পর সে আবার ছবি আঁকছে, তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত প্রশান্তি। এই কাজটা তাকে নিশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দেয়।
Panel 6
পরদিন অফিসে অনীকের চোখে ঘুমের অভাব স্পষ্ট। তার কাজে সামান্য ভুল হওয়ায় মিঃ রহমান অসন্তুষ্ট হলেন। তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি অনীককে অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
Panel 7
ক্যাফেটেরিয়ায় বসে অনীক দেওয়ালে লাগানো একটি পোস্টার দেখল। “শহরের শিল্প প্রদর্শনীতে আপনার শিল্পকর্ম জমা দিন। স্বপ্নকে সত্যি করার এটাই সুযোগ।“
Panel 8
প্রেজেন্টেশনের দিন। অনীক বোর্ডরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, হাতে ফাইল। কিন্তু তার মন পড়ে আছে অন্য কোথাও, তার আঁকা ছবিটার কাছে।
Panel 9
ভেতর থেকে মিঃ রহমানের ডাক ভেসে এলো, “অনীক, সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।“ এক মুহূর্তের জন্য অনীক চোখ বন্ধ করলো, যেন নিজের ভেতরের দ্বিধা দূর করার চেষ্টা করছে।
Panel 10
হঠাৎ অনীক ঘুরে দাঁড়াল। সে বোর্ডরুমের দিকে না গিয়ে উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করল, তার মুখে এক অদ্ভুত দৃঢ় সংকল্প। মিঃ রহমান এবং সহকর্মীরা অবাক হয়ে তাকে দেখছে।
Panel 11
আর্ট গ্যালারিতে অনীক তার আঁকা ছবিটি জমা দিচ্ছে। তার মুখে কোনো আফসোস নেই, বরং এক গভীর শান্তি আর মুক্তির আনন্দ। সে নিজের পছন্দের পথ বেছে নিয়েছে।
Panel 12
কয়েক মাস পর। অনীক তার ছোট স্টুডিওতে বসে নতুন ছবি আঁকছে, তার মুখে সাফল্যের নয়, বরং সন্তুষ্টির হাসি। তার সেই প্রথম ছবিটি প্রদর্শনীতে বিক্রি হয়ে গেছে।