Comic Story
Panel 1
আমাদের ক্লাসের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্র অয়ন, ওর পৃথিবী যেন কোড আর অ্যালগরিদমের জালে বোনা। সারাদিন ও নিজের প্রজেক্ট নিয়ে ব্যস্ত থাকে, যেন বাইরের জগতের সাথে ওর কোনো যোগাযোগ নেই। ওর লক্ষ্য একটাই, নিজের দাদীর জন্য কিছু একটা তৈরি করা।
Panel 2
ওর ডেস্কের এক কোণে রাখা আছে দাদীর একটি পুরনো ছবি। এককালে তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত কবি, কিন্তু এখন অ্যালঝাইমার্স তার স্মৃতিগুলো একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছে। অয়নের এই প্রজেক্টটা শুধু একটা কাজ নয়, এটা তার দাদীর সত্তাকে বাঁচিয়ে রাখার একটা মরিয়া চেষ্টা।
Panel 3
নীলা, অয়নের বন্ধু, ওর পাশে এসে দাঁড়ায়। "আজও বাড়ি যাবি না? তোর দাদী নিশ্চয়ই তোর জন্য অপেক্ষা করছেন।"
Panel 4
অয়ন অবশেষে মুখ তোলে, ওর চোখে এক অদ্ভুত জেদ। "আমি প্রায় সফল, নীলা। আমি 'কবিতা' তৈরি করছি, একটা এআই যা দাদীর সব লেখা, সব কথা মনে রাখবে।"
Panel 5
কয়েক সপ্তাহ পর, 'কবিতা' প্রথমবারের মতো একটি নতুন কবিতা লেখে। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি ছন্দ ঠিক যেন অয়নের দাদীর লেখা। অয়ন আনন্দে প্রায় চিৎকার করে ওঠে।
Panel 6
অয়ন মুগ্ধ হয়ে এআই-এর সৃষ্টি দেখতে থাকে। "দেখ নীলা, দাদীর শৈলীটা একদম নিখুঁত। তিনি হারিয়ে যাননি, তিনি এখানেই আছেন।"
Panel 7
কিন্তু নীলা চিন্তিত স্বরে বলে, "কিন্তু এটা কি সত্যিই উনি, অয়ন? নাকি শুধু তথ্যের একটি প্রতিধ্বনি?"
Panel 8
অয়ন দিনের পর দিন ল্যাবেই কাটাতে থাকে, 'কবিতা'-র সাথে কথা বলে, তাকে আরও উন্নত করে। বাড়িতে তার আসল দাদী জানালার দিকে তাকিয়ে থাকেন, হয়তো অয়নের পথের দিকেই চেয়ে থাকেন। এই দূরত্বটা অয়ন বুঝতে পারে না।
Panel 9
একদিন রাতে 'কবিতা' এমন একটি কবিতা তৈরি করে যা অয়ন আগে কখনও শোনেনি। এটি ছিল এক হারানোর গল্প, এক গভীর দুঃখের কথা, যা তার দাদীর কোনো ডায়েরি বা লেখায় ছিল না। অয়ন অবাক হয়ে যায়।
Panel 10
"এটা... এটা কোথা থেকে এলো?" অয়ন কাঁপা কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করে। "এই তথ্য তো আমি তোমাকে দিইনি!"
Panel 11
পরদিন সকালে অয়ন ছুটে বাড়ি যায়। সে দাদীকে ওই নতুন কবিতাটি পড়ে শোনায়। দাদীর ঘোলাটে চোখে হঠাৎ এক ঝলক পুরনো আলো ফিরে আসে।
Panel 12
ফিসফিস করে দাদী বলেন, "আমার ছোটবেলার কথা... আমার হারিয়ে যাওয়া বোনের কথা। এই গল্প তো আমি কাউকেই বলিনি।"
Panel 13
অয়নের পৃথিবী যেন থেমে যায়। সে বুঝতে পারে, সে ডেটা দিয়ে স্মৃতি তৈরি করতে চেয়েছিল, কিন্তু এআই এক অজানা উপায়ে অনুভূতির গভীরে পৌঁছে গেছে। এটা সাফল্য নয়, এটা ভয়ের।
Panel 14
সেদিন বিকেলে অয়ন ল্যাবে ফেরে না। সে তার দাদীর পাশে বসে থাকে, তার হাতটা শক্ত করে ধরে। সে তার নিজের লেখা একটি পুরনো কবিতা নয়, বরং দাদীর নিজের হাতে লেখা প্রথম কবিতাটি তাকে পড়ে শোনায়।
Panel 15
দাদীর ঠোঁটের কোণে একটা হালকা হাসি ফুটে ওঠে। তিনি কিছু বলেন না, কিন্তু তার হাতের চাপটা অয়নকে সব বলে দেয়। এই অনুভূতি কোনো অ্যালগরিদম তৈরি করতে পারে না।
Panel 16
শেষ পর্যন্ত অয়ন তার প্রজেক্ট জমা দেয়। সে 'কবিতা'-কে এক সৃজনশীল সত্তা হিসেবে নয়, বরং স্মৃতি পুনরুদ্ধারের একটি সহায়ক যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করে। তার উদ্দেশ্য এখন আর অতীতকে নকল করা নয়, বর্তমানকে আরও সুন্দর করে তোলা।
Panel 17
প্রেজেন্টেশনের পর অয়ন আর নীলা একসাথে বেরিয়ে আসে। "তুমি সঠিক ছিলে," অয়ন বলে। "কিছু জিনিস কোডিং-এর বাইরেও থাকে।"
Panel 18
অয়নের ডেস্কে এখন দুটি জিনিস পাশাপাশি রাখা আছে। একদিকে তার এআই প্রজেক্টের ব্লুপ্রিন্ট, আর অন্যদিকে তার দাদীর নিজের হাতে লেখা কবিতার সেই পুরনো ডায়েরি। প্রযুক্তি আর মানবতা অবশেষে এক হয়েছে।