Comic Story
Panel 1
গ্রামের নাম সবুজপুর, যেখানে শান্ত নামের এক দুরন্ত বালক বাস করত। তার জগৎ ছিল খেলাধুলা আর বন্ধুদের নিয়ে, কিন্তু আযানের ধ্বনি তার কানে পৌঁছালেও মনে দাগ কাটত না।
Panel 2
মসজিদ থেকে যোহরের আযান ভেসে আসছিল, কিন্তু শান্তর সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না। সে তার মার্বেলটি ছুঁড়ে মারল আর আনন্দে চিৎকার করে উঠল।
Panel 3
খেলা শেষে বাড়ি ফিরতেই দাদু তাকে ইশারায় ডাকলেন। তার মুখে ছিল কোমল হাসি, কিন্তু চোখে ছিল গভীর কিছু বলার আকুতি।
Panel 4
দাদু তার হাতে একটা পুরনো, মরচে পড়া চাবি তুলে দিলেন। শান্ত অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “এটা দিয়ে কী হবে দাদু, এটাতো কোনো তালাই খুলবে না!”
Panel 5
দাদু বললেন, “এই চাবিটা কোনো জাগতিক দরজা খুলবে না, বাবা। এটা তোমাকে শুধু মনে করিয়ে দেবে আসল চাবির কথা, যা দিয়ে জান্নাতের দরজা খোলা হয়।”
Panel 6
পরদিন শান্ত নদীর ধারে একা একা হাঁটছিল, হাতে সেই চাবিটা। দাদুর কথাগুলো তার মনের ভেতর বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল।
Panel 7
সে দাদুকে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, “নামাজ কি সত্যিই এত জরুরি, দাদু? খেলাধুলার চেয়েও বেশি?” দাদু তার পাশে বসলেন আর তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।
Panel 8
দাদু বললেন, “রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নামাজ হলো জান্নাতের চাবি।’ যার কাছে এই চাবি আছে, তার জন্যই তো আসল দরজা খুলবে।”
Panel 9
হঠাৎ আসরের আযানের ধ্বনি শুনে শান্তর পা থেমে গেল। সে তার বন্ধুদের সাথে এক বিপজ্জনক ভাঙা সাঁকোর দিকে দৌড়ে যাচ্ছিল, কিন্তু আযানের শব্দ তাকে এক মুহূর্তের জন্য থামিয়ে দিল।
Panel 10
সেদিন মাগরিবের সময় শান্ত জায়নামাজে দাঁড়াল, মনটা ছিল আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত। সিজদায় গিয়ে সে এক অদ্ভুত প্রশান্তি অনুভব করল, যা সে আগে কখনো পায়নি।
Panel 11
এরপর থেকে শান্ত আর এক ওয়াক্ত নামাজও ছাড়েনি। তার এই পরিবর্তন দেখে তার বন্ধুরাও অবাক হলো এবং তার দেখাদেখি মসজিদে আসতে শুরু করল।
Panel 12
শান্ত এখন জানে, তার হাতে থাকা সবচেয়ে মূল্যবান চাবি হলো নামাজ। এটাই তার রবের সাথে সংযোগ এবং চিরস্থায়ী শান্তির পথ।